১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনাসভায় ম্যান্ডেলার অবদান স্মরণ


দক্ষিণ আফ্রিকানরা ৫ ডিসেম্বর তাদের প্রিয় নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। এ উপলক্ষে বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামের এক প্রতীক এবং বিশ্বের আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে তার অবদানের কথা স্মরণ করতে প্রার্থনাসভাসহ অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খবর এএফপির।

প্রিটোরিয়া শহরের ফ্রিডম পার্ক ভবনে এক আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনাসভার মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হয়। দেশের মুক্তি সংগ্রামের বীরদের উদ্দেশে পার্কটি উৎসর্গ করা হয়েছিল। প্রিটোরিয়ার পাহাড়ে সূর্যোদয়ের সময় উপজাতীয় প্রধান রন মার্টিন বলেন, ম্যান্ডেলার কারণে ২০ বছর ধরে গণতন্ত্রের প্রচলন সম্ভব হয়েছে। হরিণের শিংয়ের ভেতর জ্বলতে থাকা গুল্মলতার সুগন্ধ তখন অনুষ্ঠানস্থলের বাতাসে ভেসে বেড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী প্রবীণ সংগ্রামীরা এক হাস্যোজ্জ্বল মাদিবার পাঁচ মিটার উঁচু মূর্তির পাদদেশে পুষ্পমাল্য অর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দক্ষিণ আফ্রিকানরা তাদের জাতির প্রিয় সন্তান ম্যান্ডেলাকে স্নেহবশত তার গোষ্ঠীর নামানুসারে ‘মাদিবা’ বলে ডেকে থাকে। ম্যান্ডেলার বিধবা স্ত্রী গ্রাসা ম্যাচেল বলেন, দেহের অবসান ঘটেছে, কিন্তু মাদিবার চেতনা কখনও বদলায়নি। এটি শেষাবধি সব সময়েই একই থেকে যায়। এরপর তিনি মূর্তির পাদদেশে এক বিশাল পুষ্পমাল্য নিবেদন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকানরা তাদের নিজস্ব অনেক উপায়ে সাবেক প্রেসিডেন্টকে স্মরণ করেন। তিনি ২৭ বছর কারাভোগের পর বর্ণবৈষম্যের কালো দিনগুলো থেকে দেশকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সহযোগী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আর্চবিশপ এমেরিটাস ডেসমন্ড টুটু ম্যান্ডেলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে দক্ষিণ আফ্রিকানদের প্রতি আহ্বান জানান। টুটু ১৯৮৪ সালে এবং ম্যান্ডেলা ১৯৯৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

অবিসংবাদিত নেতা ম্যান্ডেলা দীর্ঘ রোগ ভোগের পর গত বছর ৯৫ বছর বয়সে মারা যান। তিনি প্রায় তিন দশক কারাগারে থাকার পর ১৯৯৩ সালে বীরের বেশে বেরিয়ে এসে দক্ষিণ আফ্রিকায় সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। তিনি ১৯৯৪ সালে সার্বজনীন ভোটে দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।