২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ডা. শামারুফের লাশ তুলে ফের ময়না তদন্ত ॥ পরে একই কবরে দাফন


স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ পুনর্ময়নাতদন্তের জন্য ডা. শামারুফ মেহজাবিন সুমির লাশ যশোর কারবালা গোরস্তান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ দাফনের ২০দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ডা. শামারুফের লাশ কবর থেকে তোলা করা হয়। পরে বিকেলে সেখানেই পুনরায় দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সালামের নেতৃত্বে যশোর শহরের কারবালা কবরস্থান থেকে এ লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল হাসান, ডা. সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মুন্সী রুহুল কুদ্দুস, মেডিক্যাল টিমের সদস্য যশোর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. হুসাইন সাফায়েত ও প্রভাষক জেসমিন সুমাইয়া, যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক। লাশ উত্তোলনের পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মরদেহ যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, লাশ উত্তোলনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়। পরে সেখানে লাশের পুনর্ময়নাতদন্ত করা হয়। বিকেলে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কারবালা গোরস্তানে। সেখানেই দাফন করা হয় তাঁকে। ডা. শামারুফের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহের মাথা ও গলার কাছে কিছুটা পচন ধরলেও শরীরের অধিকাংশ অক্ষত আছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর গলার দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, শামারুফ হত্যাকা-ের পর থেকেই তার ওপর চাপ রয়েছে। এছাড়া শুরু থেকেই এ মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এ কারণেই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নবেম্বর ধানমন্ডির বাসায় ‘নিহত’ হন যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুফ মেহজাবিন সুমি। এ ঘটনায় ডা. সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম মেয়ের শ্বশুর খান টিপু সুলতান, শাশুড়ি ও স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে ধানম-ি থানায় মামলা করেন। ১৪ নবেম্বর রাতে যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে ডা. শামারুফের লাশ দাফন করা হয়।

গত ২৩ নবেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ধানম-ি থানায় পাঠানো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনর্ময়নাতদন্তের আবেদন করেন ডা. সুমির পিতা। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে লাশ উত্তোলন করে পুনর্ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে বুধবার যশোর আসেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার সিআইডির এএসপি মুন্সী রুহুল কুদ্দুস।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: