২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সমুদ্র সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে


ফিরোজ মান্না, চট্টগ্রামের বানৌজা ইশা খাঁ ঘাঁটি থেকে ॥ জাতীয় সমুদ্র নীতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সমুদ্র এলাকায় একচ্ছত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বেড়েছে নৌবাহিনীর কর্মপরিধিও। সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসছে নতুন নতুন জাহাজ। চট্টগ্রামের নৌঘাঁটি বানৌজা ইশা খাঁর কমান্ড মেসে ‘সমুদ্র সম্পদের নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র সম্পদের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার শেষে নৌ বাহিনী প্রধান ভাইস এ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় সমুদ্র নীতির খসড়া তৈরি করে জমা দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মতামত নেয়ার পর সেটি পাস হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশে ভূমির পরিমাণ কম হওয়ায় আগামীতে আমাদের সমুদ্রের দিকে তাকাতে হবে। সমুদ্র সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে এখনই কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, অনেক সময় দুর্ঘটনার পর জাহাজ বেশি গভীরে থাকায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। উদ্ধার করতে হলে বিদেশ থেকে জাহাজ আনতে হয়। তবে এই খরচ কে বহন করবে? যারা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তারা কি এই খরচ বহন করবে?

বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই দিনের এই সেমিনার শেষ হয়েছে। সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিট) রিয়ার এ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম (অব.) বলেন, বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি ব্লু ইকোনমিতে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রমাতৃক বাংলাদেশে পরিণত হবে। ভারত-মিয়ানমার আমাদের দুই প্রতিবেশী। এরপর তৃতীয় প্রতিবেশী হবে বঙ্গোপসাগর। এই প্রতিবেশীকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বহুমুখী সুবিধা পাবে। সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে তিনি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। গত বুধবার দুই দিনব্যাপী এই সেমিনার শুরু হয়। এতে মোট নয়টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক প্রতিনিধি এতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মুহাম্মাদ ইমাদুদ্দীন সেমিনারে উপস্থাপিত নিবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তাছাড়া গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশেষ তথ্যও আমাদের কাছে নেই। তবে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমায় গ্যাস পেয়েছে। কাজেই আমাদের সেখানে অনুসন্ধানে যাওয়া উচিত।

কমোডর শামসুল আলম তার উপস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ন্যাশনাল মেরিটাইম এ্যাডভাইজ্যারি কমিটির একটি কাঠামো প্রস্তাব করেন।

ক্যাপ্টেন মোঃ জিল্লুর রহমান তার নিবন্ধে সমুদ্রবক্ষে নিরাপদ চলাচল ও যে কোন ধরনের অপরাধ প্রবণতারোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: