২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হার- রূপগঞ্জের রূপ দেখাতে পারলেন না সাকিবও


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা পাঁচ জয়ের পর এমন ধসই নেমেছে টানা তিন ম্যাচে হেরে গেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ! এমনকি বুধবার বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান খেলেও রূপগঞ্জের হার ঠেকাতে পারলেন না। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজের পর এবারের লীগে প্রথমবারের মতো রূপগঞ্জের হয়ে খেলতে নামেন সাকিব। তাতেও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে ৯৫ রানের বড় হার থেকে মুক্তি মিলেনি রূপগঞ্জের। সাকিবও আহামরি কোন নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি। বল হাতে ১০ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ ৩২ রান দিয়ে নিয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। আর ব্যাট হাতে করেছেন মাত্র ১১ রান। রূপগঞ্জের হারের দিনে টানা অষ্টম হারের শিকার হয়েছে ওল্ডডিওএইচএসও। প্রাইম দোলেশ্বরের কাছে ১০৯ রানে হেরেছে। একই দিন মোহামেডানের কাছে ৮ রানে হেরে টানা তৃতীয় হার হয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবেরও।

মাশরাফির নেতৃত্বে মোহামেডানের জয়

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মোহামেডান-শেখ জামাল খেলা হয়। এই খেলায় জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও খেলেন। মোহামেডানের হয়ে এবারের লীগে প্রথমবার নেতৃত্ব দেন মাশরাফি। তার নেতৃত্বে দলও জয় পায়। শেখ জামালের মতো শক্তিশালী দলকে ম্যাচসেরা নাঈম ইসলামের ব্যাটিং-বোলিং নৈপুণ্যে হারিয়ে দেয় মোহামেডান। টস জিতে আগে ব্যাট করে নাঈমের ৫৭ রানে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৫ রান করে মোহামেডান। মোহামেডানের হয়ে জিম্বাবুইয়ের সোলোমন মিরে খেলে ১৯ রান করেন। সোহাগ গাজী ৩ উইকেট নেন। কিন্তু অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করেন সোহাগ। এ জন্য তাকে ১ ম্যাচ নিষিদ্ধও করা হয়েছে। জবাবে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ৪৮.৫ ওভারে ১৭৭ রান করতেই অলআউট হয়ে যায় শেখ জামাল। নাঈম ও অমিত কুমার ৩টি করে উইকেট নেন। তবে রাহাতুল ফেরদৌস যে ১৭৭ রানের সময় আবুল বাশার ও মেহেদী হাসানকে পরপর দুই বলে আউট করে দেন, সেখানে মোহামেডান এগিয়ে যায়। মাশরাফি নেন ১ উইকেট। তবে শেখ জামাল যে এতদূর আসে সবচেয়ে বড় অবদান ৮৯ রান করা শাহরিয়ার নাফীসের।

বিকেএসপিতে যেন হিউজেসের ভুত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে মোশাররফ হোসেন রুবেলকে। ফরহাদ রেজার বাউন্স একটি বল গিয়ে মোশাররফের মাথায় আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা পেয়ে মোশাররফ রিটায়ার্ড হার্ট হন। সেই যে রূপগঞ্জের ইনিংসে ভরাডুবি শুরু হয়। তা অব্যাহতই থাকে। সেরা দল গড়েছে রূপগঞ্জ। দলবদলের পর এমনই দেখা গেছে। কিন্তু সেই দলটিই কিনা শেষ তিনটি ম্যাচ হেরে গেছে। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটি কিনা এবার ভরাডুবির মধ্যে পড়ে গেছে। সেই ভরাডুবি অব্যাহতও আছে। প্রাইম ব্যাংক আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান করে। জিম্বাবুইয়ের ব্রেন্ডন টেইলর প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলে ব্যাট হাতে করেন ২৩ রান। জবাবে রূপগঞ্জ ১৪৮ রান করতেই অলআউট হয়ে যায়। তাইজুল একাই ৪ উইকেট নিয়ে নেন। একদিন আগেই সাকিবের বিদেশে লীগ খেলার শাস্তিও মওকুফ করা হয়েছে। অথচ পরেরদিনই ম্যাচ জেতাতে না পারায় অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করেন সাকিব। এ জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে সাকিবকে।

মুশফিক উপরে তুললেন দোলেশ্বরকে

ফতুল্লায় খেলতে নামার আগে প্রাইম দোলেশ্বর হার-জিতের মধ্যেই ছিল। অবস্থানও তিন চারেই আটকে ছিল। মুশফিকুর রহীম এসে দায়িত্ব নিতেই দোলেশ্বর পয়েন্ট তালিকায় উপরে উঠে গেছে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সঙ্গে এখন যৌথভাবে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দোলেশ্বর। অষ্টম রাউন্ড শেষে এমন অর্জন যুক্ত করতে দলটি হারিয়ে ওল্ডডিওএইচএসকে। যে দলটি টানা ৮ হারের শিকার হয়েছে। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে দোলেশ্বর ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৫ রান করে। জবাবে আসিফ আহমেদের (৫/২৪) বোলিং তোপে ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় ওল্ডডিওএইচএস।

মোহামেডান ইনিংস ১৮৫/৯; ৫০ ওভার (নাঈম ৫৭, আরিফুল ৩৭, মিঠুন ৩১; সোহাগ ৩/৩৩)।

শেখ জামাল ইনিংস ১৭৭/১০; ৪৮.৫ ওভার (শাহরিয়ার ৮৯, তুষার ২৬; নাঈম ৩/২১, অমিত ৩/৩৫, মাশরাফি ১/৩৪)। ফল ॥ মোহামেডান ৮ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা ॥ নাঈম ইসলাম (মোহামেডান)।

প্রাইম ব্যাংক ইনিংস ২৪৩/৯; ৫০ ওভার (শুভগত ৪৬, নুরুল ৪১, তৈয়বুর ৩৯, ফরহাদ রেজা ৩২; রুবেল ২/৫৫, সাকিব ১/৩২)। রূপগঞ্জ ইনিংস ১৪৮/১০; ৩৯.১ ওভার (জহুরুল ৫৩, ডয়েশচেট ৪০; তাইজুল ৪/৩২, ফরহাদ ২/২৮)। ফল ॥ প্রাইম ব্যাংক ৯৫ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা ॥ ফরহাদ রেজা (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।