১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে!


ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান হবে না আবারও এ দু’জনের কেউ বাজিমাত করবেন? ২০১৪ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অরের জন্য ফিফা সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের পর এমন গুঞ্জন ফুটবলবিশ্বে। ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃক জুরিখে ঘোষিত তালিকায় যথারীতি আছেন সময়ের দুই সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসি।

মুকুট ধরে রাখবেন রোনাল্ডো না মেসি পুনরুদ্ধার করবেন শ্রেষ্ঠত্ব? না এই দুই তারকার একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বাজিমাত করবেন নতুন কেউ। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এ নিয়ে গুঞ্জন ও আলোচনাও বেড়ে চলেছে। অক্টোবরের শেষ ভাগে ফিফা ব্যালন ডি’অরের জন্য ২৩ জনের তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকা থেকে সংক্ষিপ্ত তিন জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে ১ ডিসেম্বর। আর ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সেরা খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গত ছয়টি (২০০৮ থেকে ২০১৩) ফিফা সেরা ফুটবলারের পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেসি ও রোনাল্ডো। ২০০৮ সালে রোনাল্ডো ফিফা সেরা হওয়ার পর ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চারবার এই অ্যাওয়ার্ড জেতেন মেসি। ২০১৩ সালে আবারও শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করেন সি আর সেভেন। বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনাল্ডো এবারও এই পুরস্কারের জন্য টপ ফেবারিট। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে আবারও ফিফা সেরা হবেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টার। তবে শ্রেষ্ঠত্বের এই মিশনে এবার মেসির সঙ্গে নয় রোনাল্ডোকে লড়তে হবে বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ফুটবলারদের সঙ্গে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পুরস্কার হিসেবে ২৩ জনের তালিকায় জার্মানদের আধিপত্য দেখা গেছে। ২৯ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড রোনাল্ডো চলতি বছর আছেন তুখোড় ফর্মে। বিশ্বকাপে তেমন ভাল করতে না পারলেও ক্লাব দল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন। গ্যালাক্টিকোদের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দশম শিরোপা জিততে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। সম্প্রতি সাক্ষাতকারে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনাল্ডো বলেন, ‘আমার ধারণা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আবারও জিততে চলেছেন (ব্যালন ডি’অর)। সে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলে চলেছে এবং গোলের পর গোল পাচ্ছে।’ এক্ষেত্রে মেসির প্রসঙ্গও আনেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, ‘আমার ধারণা মেসিও ভাল অবস্থায় আছে। তবে গত বছরগুলোর মতো সে অতুলনীয় নয়।’ ব্রাজিলের রোনাল্ডো পর্তুগালের রোনাল্ডো পক্ষে সাফাই গাইলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ লুইস ভ্যান গাল মনে করছেন, এবার রিয়াল তারকা ফিফা সেরা হওয়ার যোগ্য নন। শুধু তাই নয়, মেসিকেও তিনি যোগ্য মনে করছেন না। বিশ্বকাপে হল্যান্ডের কোচের দায়িত্ব পালন করা ভ্যান গাল মনে করেন, এবার বিশ্বকাপজয়ী কোন জার্মান ফুটবলারের এবার মুকুট জয় করা উচিত।

তবে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের কড়া সমালোচনা করেছেন তারকা কোচ জোশে মরিনহো। তার মতে এই ধরনের পুরস্কার ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর। কারণটাও উল্লেখ করেছেন স্পেশাল ওয়ান খ্যাত পর্তুগালের এই কোচ। ফিফা ব্যালন ডি’অরে শুধুমাত্র একজন একক খেলোয়াড়কেই মূল্যায়ন করা হয়, পুরো দলকে নয়। এই ধরনের নীতিতে তিনি কখনই বিশ্বাসী নন। চেলসির কোচ হিসেবে ইংল্যান্ডেও বারবার একথা বলে থাকেন মরিনহো। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বিশ্বাস করেন ক্লাব কিংবা খেলোয়াড় থেকে কখনই ব্যালন ডি’অর বড় হতে পারে না। সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানের কোচ বলেন, ‘ব্যালন ডি’অরের মতো এই ধরনের ট্রফি ফুটবলের জন্য কখনই ভাল কিছু নিয়ে আসেনি। এই জন্যই আমি এগুলোর পক্ষে নই। মাঝে মাঝে আমরা শুধুমাত্র তারকাদের দিকে দৌড়াই, কিছু কিছু খেলোয়াড়কে অন্য সকলের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলি। কিন্তু এই বিষয়গুলো আমি চেলসিতে দেখতে চাই না। আমি মোটেই এগুলো নিয়ে চিন্তিত নই। তবে অবশ্যই এটা মানতে হবে ভাল কিছুর স্বীকৃতি ব্যক্তিকে দিতেই হবে, যা কার্যত পুরো দলের উপরেই এসে পড়ে। তাই আমি বলব এই ধরনের পুরস্কারের লক্ষ্য যদি তাই হয় তবে তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু মানসিকভাবে এসবের পিছনে না দৌড়ানোই ভাল। আমি যখন চোখের সামনে দুটি নাম দেখিÑচেস ফেব্রিগাস ও ইডেন হ্যাজার্ড তখন খুবই আশ্বস্ত হই। আমার কাছে মনে হয় তারা এগুলো নিয়ে কোন চিন্তাই করে না। তারা সবসময়ই দলের চিন্তা করে, ভাল খেলে এবং ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করে।’ ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য ফিফার ২০৯টি সদস্য দেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ও একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের ভোট দিয়ে থাকেন। ফিফা ফুটবল কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং ফ্রান্স ফুটবলের একটি বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে ২৩ জন পুরুষ খেলোয়াড়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়ন করেন। সেখান থেকে ভোটাররা তাদের শীর্ষ তিনজনকে বাছাই করে ভোট দেন। প্রত্যেক ফিফা সদস্য রাষ্ট্র থেকে তিনজন ভোটার থাকবেন। একজন সাংবাদিক, জাতীয় পুরুষ দলের কোচ ও অধিনায়ক। প্রত্যেক ভোটার নিজের প্রথম (৫ পয়েন্ট), দ্বিতীয় (৩ পয়েন্ট) ও তৃতীয় (১ পয়েন্ট) পছন্দের খেলেয়াড়কে ভোট দেন। তাদের ভোট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রকাশ করা হয় তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। যেখান থেকে সেরাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

ব্যালন ডি’অরের প্রবর্তন ১৯৫৬ সাল থেকে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ পুরস্কার দেয়া হয়। আর ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারের প্রবর্তন ১৯৯১ সাল থেকে। ২০১০ সাল থেকে এ দু’টি পুরস্কারকে একীভূত করা হয়। যার নাম দেয়া হয়েছে ফিফা ব্যালন ডি’অর। ২০০৯ সালে সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জয় করেন মেসি। ওই বছর ফিফা বর্ষসেরাও হন বার্সিলোনা ডায়মন্ড। ২০১০ সাল থেকে প্রচলিত ফিফা ব্যালন ডি’অরের এবার পঞ্চম পালা। প্রথম তিনবার গৌরবময় এ পুরস্কার বাজিমাত করেন মেসি। পরের বার রোনাল্ডো। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত চারবার ফিফা সেরা হয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তিনবার করে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড রয়েছে হল্যান্ডের জোহান ক্রুয়েফ (১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৭৪), ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি (১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫) ও হল্যান্ডের মার্কো ভ্যান বাস্তেইনের (১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯২)। ফিফা বর্ষসেরা তিনবার করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো ও ফ্রান্সের জিনেদিন জিদানের। রোনাল্ডো সেরার মুকুট পরেন ১৯৯৬, ১৯৯৭, ২০০২ সালে। জিদান সবার সেরা হন ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৩ সালে। এছাড়া ব্রাজিলের আরেক সুপারস্টার রোনাল্ডিনহো দু’বার ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।