২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এমন সাফল্যই চেয়েছিলাম


গত একমাস ধারাবাহিকভাবেই ভাল খেলল আমাদের দলটি। ঢাকা টেস্ট দিয়ে শুরু। সারা বছরের ব্যর্থতা অবসান হয় ঢাকা টেস্টে। সেই জয়টার পর ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। আগে দেখা যেত বাংলাদেশ দলে দু’একজন ভাল করছে এবং তাদের পারফরম্যান্সেই দল জিতছে। এই সিরিজটা কিন্তু এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। অনেকেই ভাল পারফর্ম করেছেন। সাকিব, তামিম, মুশফিক ছাড়াও তাইজুল, জুবায়ের, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, কায়েস, মুমিনুল, এনামুল, আরাফাত সানি, অধিনায়ক মাশরাফি এদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে জিতেছে দল। সত্যিকার অর্থে শুভ ইঙ্গিত। এর অর্থ হল বাংলাদেশ দল এই সিরিজে এক দুটি ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। দলে এমন অনেক ক্রিকেটার ছিল যাঁরা সাকিব, তামিম, মুশফিক নন অথচ দলের প্রয়োজনে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।

আরেকটি ভাল ব্যাপার ঘটেছে সেটা হলো ধারাবাহিকতা। দল ধারাবাহিকভাবেই ভাল করে গেছে। এর আগে বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দেশের মাটিতে পুরো সিরিজ প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেও ৩-২ জিততে হয়েছে দলকে শুধুমাত্র ওই ধারাবাহিকতার অভাবে। ওই সিরিজটা বাংলাদেশ ৫-০ তে জিততে পারত। যাহোক এবার প্রতিটা ম্যাচেই কিছু না কিছু উন্নতি ছিল। সমালোচকরা বলতে পারেন সাফল্য দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জিম্বাবুইয়েকে দুর্বল দল বলা কতটুকু যৌক্তিক জানি না। কারণ ক’দিন আগেই ওরা দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। তাই ক্ষুদে টাইগারদের এই সাফল্যকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই।

এক সময়তো কেনিয়াকে হারানোই দুঃসাধ্য ছিল আমাদের জন্য, ওয়াইট ওয়াশতো পরে। আমরা সেই সময় পারি দিয়ে এসেছি। তবে দলের প্রতি অনুরোধ থাকবে এই সাফল্যে বেশি তৃপ্ত না হতে। এইটুক ভালতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও ভাল করার জন্য নিরন্তর কাজ করা। সাফল্য অবধারিত। সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ। সেটা এবার হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিলান্ডে। তাই চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন। আসন্ন বিশ্বকাপে ভাল করার জন্য নিজেরদের উজাড় করে দিয়ে প্রস্তুতি চালাতে হবে। গত বিশ্বকাপগুলোতে আমাদের পারফরম্যান্স ভাল ছিল না মোটেও। সেজন্যই বিশ্বকাপে সম্মানজনক পারফম্যান্স করাটা জরুরী। আর সেটাই হবে ভাল পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা।

এবার আরেকটি লক্ষণীয় ঘটেছে এর সেটা হলো বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো নির্বাচকদের জন্য দল নির্বাচনটা কঠিন করে দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এতগুলো ভাল পারফরমার কাকে বাদ দিয়ে কাকে দলে নিবেন নির্বাচকরা সেটা এক কঠিন প্রশ্ন। প্রকৃতপক্ষে এমনটি আরও আগে হওয়া দরকার ছিল। ক্রিকেটাররা নির্বাচকদের জন্য দল নির্বাচন যত কঠিন করবেন দলের জন্য তা ততই ভাল হবে। সেই সঙ্গে আইসিসিকে বলব ক্রিকেটের জন্য আরও ভাল প্রতিরক্ষামূলক হেলমেট ডিজাইন করার জন্য কাজ করতে যাতে করে ফিল হিউজেসের মতো কাউকে ক্রিকেট মাঠে প্রাণ দিতে না হয়।

পুরো ক্রিকেট বিশ্ব যখন অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার ফিল হিউজেসের শোকে কাতর ঠিক তখনই বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে কাক্সিক্ষত ৫-০তে জয় পেল। সেই ফিল হিউজেসকে উৎসর্গ করেই আমার আজকের এই লেখা।

চতুর্থ ওয়ানডেতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৫৬। এই দিন সিরিজের দুই সফল ব্যাটসম্যান তামিম আর এনামুলসহ কায়েস, সাকিব অল্প রানেই ফিরে যান। ১৩তম ওভারে সাকিব আউট হলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩২ রানে ৪ উইকেট। এরপর মাহমুদুল্লাহ এবং মুশফিক পঞ্চম উইকেট জুটিতে তোলেন ১৩৪ রান। দলীয় ১৬৬ রানে এবং ব্যক্তিগত ৭৮ বলে ৭৭ রানে মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর অষ্টম জুটিতে মাশরাফি ও মাহমুদুল্লাহ সংগ্রহ করেন ৮ ওভারে ৬৫ রান। এরমধ্যে ৪টি ৪ এবং ২টি ছয়ের মারে মাশরাফি করেন ২৫ বলে ৩৯। ইনিংস শেষে মাহমুদুল্লাহর ৮২ রানের সুবাদে বাংলাদেশের সংগ্রহ বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ২৫৬। জবাবে ব্যাটিং এ নেমে ভালই শুরু করেন সফরকারীরা। চতুর্থ উইকেটে টেইলর এবং মাইর ১০৬ রানের চমৎকার একটি জুটি গড়েন। জিম্বাবুইয়ের ইনিংসে মাইরের ৫২, টেইলরের ৬৪ এবং চাকাভার ২৬ রানে ভর করে ২৩৫ রান করতে সমর্থ হয় সফরকারীরা। বাংলাদেশ ২১ রানে জয় পায়। ৮২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসের জন্য ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সাকিব, জুবায়ের এবং রুবেল ২টি করে এবং মাশরাফি ১টি উইকেট পান। সিরিজের শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে জিম্বাবুইয়ে ভাল শুরু করে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাসাকাদযা এবং সিবান্দা ৬.১৫ গড়ে ৭৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। এরপর হঠাতই স্পিন ঝড়ে উড়ে যায় সফরকারীরা। এই ঝড়ের নেতৃত্ব দেন তাইজুল। মাশরাফি ১টি, জুবায়ের ২টি, সাকিব ৩টি করে উইকেট নেন। তাইজুল হ্যাট্রিকসহ ৭ ওভারে ১১ রানে ৪টি উইকেট নিলে জিম্বাবুইয়ের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১২৮ রানে। তাইজুল ওয়ানডের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেক মাচেই হ্যাটট্রিক করেন। এর জবাবে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৯ রান করতে বাংলাদেশ হারায় ৫টি উইকেট। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৫৫ বলে ৫১ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ২৪৪ ওভারে ১৩০ করে জয় তুলে নিয়ে ৫-০ তে সিরিজ জিতে নেয়। পুরো সিরিজে অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্য মুশফিক ম্যান অফ দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন।

লেখক : সাবেক ক্রিকেটার, কোচ