১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সৈয়দপুরে রেলওয়ের ॥ সম্পত্তি ও কোয়ার্টার দখলে


স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী, ২ ডিসেম্বর ॥ রেল প্রশাসনের অনিয়ম অব্যবস্থাপনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রেল কোয়ার্টারসহ প্রায় পাঁচ শ’ একর রেলের সম্পত্তি চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। এ সব জমিতে গড়ে উঠছে একের পর এক বহুতল ভবন। অপরদিকে দেড় হাজার রেল কোয়ার্টার হয়েছে বে-দখল। অভিযোগ উঠেছে ব্রিটিশ শাসনামলের সিটি এ্যালাউন্স ও বিভাগীয় পশ্চিম মর্যাদা পাওয়া বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার এ সম্পত্তি গুটিকয়েক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দিনে দিনে অবৈধ দখলে সংকুচিত হচ্ছে রেলওয়ে সম্পত্তির পরিসীমা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে কাগজে-কলমে এ কারখানার প্রায় আট শ’ একর সম্পত্তি থাকলেও বাণিজ্যিক, কৃষি ও মৎস্য খাতে মাত্র ৭৬ একর এবং দাফতরিক স্থাপনা ২ শ’ ২৪ একর সম্পত্তিতে দখলদারিত্ব আছে। বে-দখলে গেছে প্রায় ৫ শ’ একর সম্পত্তি। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ওইসব সম্পত্তির বিপরীতে সরকার প্রায় ৪ শ’ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হারিয়েছেন। এছাড়া পৌরসভা এলাকার ৫২এ কর জমি নিয়ে চলছে উচ্চতর আদালতে মামলা।

এক হিসেবে দেখা গেছে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮ শ’ একর। এদিকে আবার রেলের জমি দখলের পাশাপাশি চলছে রেলের স্থাপনাসহ বাসাবাড়ি। একের পর এক দখল চললেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন থাকলেও এক্ষেত্রে সকলে রসুনের মতো এক হয়ে দখলদারদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে আবার রেলওয়ে কারখানার নিরাপত্তা শাখার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রেলওয়ের লোহা, তামা-পিতল, রং, সিটের জন্য ব্যবহৃত রেক্সিন, ফার্নিচারসহ নানাবিধ জিনিসপত্র রাতের আধারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এমনকি কারখানার অভ্যন্তরে থাকা মূল্যবান গাছ, ঘাস, গাছের পাতা ইত্যাদিও বিক্রি হয় সবার সামনেই। সূত্রটি দাবি করেছে, কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ মাসোহারার বিনিময়ে যাবতীয় অবৈধ কর্মকা- পরিচালিত করছে।

একইভাবে রেলওয়ের বাসা-বাড়ি দখলেও রেলওয়ের লোকজন জড়িত। তারাই কাগজে-কলমে বসবাস উপযোগী বাসা-বাড়িকে অনুপোযোগী বানিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দেন সাধারণ মানুষের কাছে।

সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানার আইডব্লিউ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি রয়েছে ২ হাজার ৪ শ’ ৮৮টি। মাত্র এক হাজার ১৮টি বাসা-বাড়ি প্রকৃত কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করলেও এক হাজার ৪ শ’ ৭০টি রয়েছে অবৈধ দখলে। কর্মরতদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের দখলে থাকা বাসা-বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা অংশটুকুও বিক্রি করছেন।

অবসরপ্রাপ্ত অনেক কর্মচারী তাঁদের দখলে থাকা বাড়িটি মোটা অংকের বিনিময়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে চলে গেছেন। ক্রেতারা রেলওয়ের বাসা-বাড়ি ভেঙ্গে নিজেদের ইচ্ছেমতো ইমারত নির্মাণ করেছেন। এমনকি বহুতল বাড়ি নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ের কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে রেলওয়ে শ্রমিক নেতা মোকছেদুল মোমিন বলেন এমন অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, ১/১১ পরবর্তীতে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি। তিনি আরও বলেন, বছর এক/দুয়েক আগে পশ্চিমাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশে কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়েরকৃত মামলাগুলো পরিচালনায় তেমন ভূমিকা নেই।