১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জঙ্গী ছালামতকে রক্ষায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সিন্ডিকেট


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ আরএসও’র বাংলাদেশের সমন্বয়ক ভয়ঙ্কর জঙ্গী মৌলভী ছালামত উল্লাহসহ পাঁচ জঙ্গীকে ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। জঙ্গী ছালামত উল্লাহ ও পাকিস্তানী নাগরিক সৌদিতে অবস্থানকারী আবু সালমান (মোঃ আলম)সহ আটক পাঁচ জঙ্গীকে ফের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে জেনে জঙ্গীদের ৪ জন সহযোগী সোমবার সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে রওনা হয়েছে।

ছালামতের মুহুরিপাড়ার জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অন্যতম সহকারী পরিচালক রোহিঙ্গা মৌলভী কামাল হোসেন, ছালামতের সেকেন্ড ইন কমান্ড ঈদগাও এলাকায় বসবাসকারী আরএসও কমান্ডার আবু আবদুল্লাহ, মৌলভী নজির প্রকাশ আরএসও নজির ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম মেম্বারসহ অন্তত ৮ জনের (আরএসও) সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের এক গোপন বৈঠক ইসলামপুর জুমনগর এলাকায় রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা ইসলামপুর জুম নগরে মাদ্রাসার নামে নির্মাণাধীন ছালামত উল্লাহর রোহিঙ্গা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে অপর জঙ্গী মৌলভী আয়াছ, তার ভগ্নিপতি মৌলভী আবদুল খালেকসহ আরও ২ অচেনা জঙ্গী উপস্থিত ছিল বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। চট্টগ্রামে ধৃত ও রিমান্ডে থাকা মৌলভী ছালামতকে যে কোন প্রকারে হোক, ছাড়িয়ে নিতে আরএসও নেতাদের নিয়ে ঐ সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে রবিবার রাত ১১টায় জুমনগরে বিএনপি নেতা আবুল কালাম মেম্বারের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গঠন এবং বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে সোমবার সকালে ৪ আরএসও নেতা চট্টগ্রামে রওনা দেয়। বর্তমানে ছালামতকে ছাড়িয়ে নিতে না পারলেও আপাতত রিমান্ডে হেরফের ও সহজ করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গীরা। তারা কতিপয় অসৎ পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকায় বশে এনে রিমান্ডে চাপাচাপি না করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে বৈঠকে আরএসও ক্যাডাররা একমত পোষণ করেছে বলে সূত্রে প্রকাশ। এদিকে ৫ জঙ্গীকে ফের পুলিশি রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানী নাগরিক মোহাম্মদ আলমসহ তিনজনকে তিনদিন ও মোহাম্মদ আমিন নামে অপর আসামিকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের হাকিম ফরিদ আলম রবিবার এ আদেশ দেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ নবেম্বর দুপুরে চট্টগ্রামের খুলশি থানার জিইসি মোড় এলাকায় আবাসিক হোটেল লর্ডস ইন থেকে পাকিস্তানী নাগরিকসহ পাঁচজনকে জঙ্গী সন্দেহে আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালত প্রত্যেককে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৫ নবেম্বর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় যৌথ ইনভেস্টিগেশন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়।