২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এমন মৃত্যু আর নয়


ঘাতক বাস কেড়ে নিল সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা জগতের মহতীপ্রাণ জগ্লুল আহ্মদ চৌধূরীকে। এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়। গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি হয়ে গেলেন নিথর, নিস্পন্দ। লাশ হয়ে গেলেন মুহূর্তেই। যে অনুষ্ঠানে যে সময়ে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা, ঠিক সেই সময়ে আহত অবস্থায় তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন। যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে হয়ত ফিরে আসতেন সদালাপী ও হাস্যমুখের প্রাণবন্ত এই মানুষটি। সবার প্রিয় প্রথিতযশা সাংবাদিক জগ্লুল আহ্মদ চৌধূরী। তাঁর নির্মম মৃত্যুতে আমরা শোকাহত, একই সঙ্গে স্তম্ভিত-ক্ষুব্ধ। ঘাতক বাস ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তাঁকে রাজপথে। পথচারীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ৪৫ মিনিট চিকিৎসাহীন অবস্থায় পড়ে থেকে অবশেষে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। তিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। ৬৫ বছর বয়সেও নিরলসভাবে সাংবাদিকতার জগতে সক্রিয় ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একদা কৃতীমান ছাত্র জগ্লুল আহ্মদ চৌধূরী সাংবাদিকতায়ও উজ্জ্বল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) তিনি ১৯৭৪ সালে যোগ দেন প্রতিবেদক হিসেবে এবং ২০০৯ সালে প্রধান সম্পাদক হিসেবে অবসরে যান। কিন্তু কর্মনিষ্ঠ মানুষটির জীবনের অভিধানে অবসর বলে কিছু ছিল না। তাই যোগ দেন একটি ইংরেজী দৈনিকে উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি নিজ অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বিশ্লেষণধর্মী তাঁর নিবন্ধ ও প্রতিবেদনগুলো পাঠকপ্রিয়তা পায়। বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষাতেই লিখতেন। লেখালেখির বিষয়ে ছিল না কার্পণ্য। নির্মোহ, নির্লোভ, সৎ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অগ্রজ, অনুজ সবার সঙ্গে মিশতেন সহজে। হাসিমুখে তিনি সবকিছু গ্রহণ করতেন। তাঁর কোন শত্রু বা নিন্দুক ছিল না। পরশ্রীকাতরতা, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, হীনম্মন্যতাÑ কোনকিছুই তাঁকে স্পর্শ করেনি। নিষ্ঠাবান পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। টেলিভিশনের টকশোতে তিনি যুক্তিসহকারে বক্তব্য উপস্থাপন করতেন। তাঁর বিশ্লেষণ ক্ষমতা ছিল অতুলনীয়। কোন বিষয়ের গভীরে যাওয়ার দক্ষতা ছিল তাঁর একান্ত নিজের। সাংবাদিকতা পেশাকে মহৎ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরন্তর সচেষ্ট ছিলেন। ঘটনার ঘনঘটায় তাই কখনও আপ্লুত হননি। কলামিস্ট হিসেবে তাঁর অবস্থান ছিল সুদৃঢ়। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি ছিল তাঁর নখদর্পণে। প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা জগ্লুল আহ্মদ দলীয় রাজনীতির আবর্তে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি।

জগ্লুল আহ্মদ চৌধূরীর মৃত্যুর কারণ তদন্ত করা জরুরী। যাদের কারণে ও অবহেলায় মৃত্যুকে বরণ করতে হলো, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণও অত্যাবশ্যক। আমরা চাই না এভাবে আর কারও মৃত্যু হোক।