২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে পাহাড়ে গড়ে উঠছে স্থাপনা


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার থেকে ॥ সরকারী সম্পদ বনভূমি দখল ও পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করে লিংকরোড মুহুরিপাড়া, ইসলামপুর জুম নগরে জঙ্গী ছালামত উল্লাহ ও রামু খুনিয়াপালং এলাকায় জঙ্গী মৌলভী আয়াছ নির্বিঘেœ একাধিক স্থাপনা গড়ে তোলার পেছনে বহু রহস্য বেরিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ওইসব বনজসম্পদ দখল এবং একশ্রেণীর রাজনৈতিক ধান্ধাবাজ নেতাকে টাকার লোভে বশীভূত করে জঙ্গীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে গড়ে তুলছে একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বনবিভাগের রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা জানান, এগুলো অন্তত এক বছর আগের স্থাপনা। এসব উচ্ছেদ করতে ম্যাজিস্ট্রেট লাগবে বলে দায়সারা হয়ে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, যেখানে প্রশাসনের ও গোয়েন্দাদের আনাগোনা একটু কম, সেই সব জায়গা বেছে নিয়ে জঙ্গী ছালামত ও জঙ্গী আয়াছ সেখানে স্থাপনা, দালান-কোঠা গড়ে তুলে থাকে বিদেশী অর্থায়নে। অনেকে বেকার থাকা সত্ত্বেও তার অপকর্মের খতিয়ান ফাঁস হয়ে যাওয়ার সন্দেহে ছালামত ও আয়াছের ওসব জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্থানীয়দের মধ্যে কাউকে চাকরি দেয়া হয় না। শুধু শিশু ব্যতীত ছাত্র হিসেবেও স্থানীয় ছাত্রদের ভর্তি করানো হয় না। পুলিশ ছালামতের মুহুরিপাড়ার মাদ্রাসায় তল্লাশি চালালেও ইসলামপুর জুম নগর এলাকার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযানে যায়নি এখনও। এমনকি সরকারী এ বিশাল সম্পদ দখল মুক্ত করতে বনবিভাগও উদ্যোগ নেয়নি এ পর্যন্ত। পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছে চুপচাপ। এতে সাধারণ জনগণের কাছে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। এ সুযোগে ওসব কেন্দ্র থেকে জেহাদী বই-পুস্তকসহ প্রশিক্ষণের উপকরণসমূহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে জঙ্গী ছালামত উল্লাহসহ ৪৩৮ জঙ্গী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও জাতীয় পরিচয়পত্র বহন করেছে বলে বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে। এদের এ কাজে সহযোগিতা করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ রোহিঙ্গাবান্ধব ৫১ ব্যক্তি। রোহিঙ্গাদের ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেয়ার পেছনে সহযোগিতাকারী রোহিঙ্গাবান্ধব ওই ৫১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চমহল থেকে ইতোপূর্বে নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দফতরে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৬ অক্টোবর পুলিশের হাতে আটক ও পরে জামিনে মুক্ত মৌলভী আয়াছও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতিয়ে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করে চলছে। আরএসও রোহিঙ্গা জঙ্গীদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গারা বস্তি তৈরি করে লেদা ও কুতুপালং শিবিরের পাশে অবস্থান ও বসবাস করে যাচ্ছে। এ রোহিঙ্গা সমস্যাকে জিইয়ে রাখতে আরএসও ক্যাডার এসব জঙ্গী ও আন্তর্জাতিক কতিপয় সাহায্য সংস্থার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।