২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চার দিন পর পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ল


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টানা চার কার্যদিবসে দর পতনের পর বুধবারে দেশের উভয় পুুঁজিবাজারে মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে ভাল মৌলভিত্তি কোম্পানিগুলোর চাহিদা বাড়ার দিনে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আগের দিনের চেয়ে টাকার অংকে লেনদেন কমেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিমেন্ট এবং সিরামিক খাতের কোম্পানিগুলোর প্রায় সবটি কোম্পানিরই দর বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ারকে শাস্তির বিধানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে ভাল মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর দরে ইতিবাচক প্রভাব, যা স্থিতিশীল বাজারের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া দীর্ঘদিন পরে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দর কিছুটা বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ২৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৯৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১০২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টি কোম্পানির শেয়ার দর। লেনদেন হয়েছে ৫৭৬ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। মঙ্গলবার ডিএসইর সার্বিক সূচক অবস্থান করে ৪ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে। ওইদিন লেনদেন হয় ৬২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫১ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সেই হিসেবে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বা ৮.২২ শতাংশ।

বুধবার ডিএসইর টপ-২০ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মোট ২৭০ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪৬.৯৪ শতাংশ। এছাড়া বরকতুল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকের ২৬ কোটি ৬৮ লাখ, যমুনা অয়েলের ১৮ কোটি ৫২ লাখ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের ১৭ কোটি ৫৯ লাখ, ডেসকোর ১৫ কোটি ৪৪ লাখ, আফতাব অটোর ১৩ কোটি ৬৩ লাখ, কেয়া কসমেটিকসের ১৩ কোটি ৫৬ লাখ, বেক্সিমকোর ১৩ কোটি ২৪ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের ১৩ কোটি ১৮ লাখ এবং জেএমআই সিরিঞ্জের ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : জিএসপি ফাইন্যান্স, হাক্কার্নী পাল্প, এক্সিম ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, আফতাব অটোস, ন্যাশনাল হাউজিং এ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড, সামিট পাওয়ার, আমরা টেক, গ্রামীণ ২য় মিউচুয়াল ফান্ড, জিবিবি পাওয়ার ও সিটি ব্যাংক। দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : খান বাদ্রার্স, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, মালেক স্পিনিং, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফার্মা এইড, বিডি ল্যাম্পস, অ্যামবে ফার্মা, কেয়া কসমেটিকস, ইস্টার্ন ক্যাবল এবং রংপুর ফাউন্ড্রি।

দিনশেষে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৯৩০৫ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ৮৯টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি কোম্পানির। লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সে হিসেবে বুধবার সিএসইতে লেনদেন কমেছে ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, খান ব্রাদার্স, বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস, সাইফ পাওয়ার টেক, আফতাব অটোস, জেএমআই সিরিঞ্জ, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক, এবি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক।