২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইরানের পরমাণু ইস্যু ॥ সমঝোতা না নিষেধাজ্ঞা


ইরানের পরমাণু ইস্যু ॥ সমঝোতা না নিষেধাজ্ঞা

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং বিশ্বের ছয় শক্তিধর রাষ্ট্রের মাঝে একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অস্ট্রেলিয়ার জি-২০ সম্মেলনের এক বৈঠকে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাশিয়ার সহপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রায়াবকোব। গত সপ্তাহের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষেও এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়। সেই বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যেই এই চুক্তি।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই মিত্র রাষ্ট্র ইসরাইল এবং সৌদি আরব এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল।

তবে চুক্তির ব্যাপারে এখনও নানা হিসাব-নিকাশ এবং জটিলতা রয়ে গেছে। কারণ মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সাম্প্রতিক সাফল্য কিছুটা হলেও বিপত্তি ঘটাবে এই সমঝোতায়। তাই আগামী ২৪ নবেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কি ঘটছে তা দেখার জন্য।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর হতে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সম্পর্ক যেন সাপে-নেউলে। মার্কিন দূতাবাসের ৫৪ অফিসারকে ইরানে আটকে রাখা এবং ইরানের যাত্রীবাহী বিমানে আমেরিকার হামলা এই সম্পর্কহীনতা আরও প্রশস্ত করে এবং কূটনীতিক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠে।

সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্কের বরফ গলার যে সম্ভাবনা ছিল তা কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ ক্ষমতায় আসার পর রুদ্ধ হয়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশ ইরানকে তখন ‘এক্সিস অব ইভিল’ বলে অভিহিত করতেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কমে আসে এই তিক্ততা। তবে মজার তথ্য হলো ইরানের আঞ্চলিক দুই শত্রু রাষ্ট্র (ইরাক এবং আফগানিস্তান) আগ্রাসনের সময় কিছুটা কাছাকাছি আসে। আইএস জঙ্গী দমনে এবং সিরিয়া বিষয়ে ভবিষ্যতে এই দুই রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইরানের সর্বত্র এখন এই চুক্তি নিয়ে সাধারণ জনগণ উদগ্রীব। তারা সবাই টিভি পর্দায় আপডেট খবর দেখছেন। তাকিয়ে আছেন ভিয়েনার দিকে। ধর্মীয় রক্ষণশীলরাও এখন কিছুটা নমনীয়। দীর্ঘ অর্থনৈতিক অবরোধ তাদের মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যহত করছে। ইরানের ভাষ্য, তাদের পরমাণু কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য বেসামরিক কিন্তু পশ্চিমাদের আশঙ্কা, তারা সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্যই এই কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। ইরানের লক্ষ্য পরমাণু বোমা এই কারণে আমেরিকা এবং তার পশ্চিমা মিত্রগুলো ইরানের বিরুদ্ধে এই অবরোধ আরোপ করে। তাদের উদ্দেশ্য, ইরান যেন কোনভাবেই তাদের তেল রফতানি এবং ব্যাংক কার্যক্রম চালাতে না পারে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে তাদের সকল সম্পত্তি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তেল রফতানি কমে আসে অর্ধেকে। যার ফলে ইরান তার অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বের চাপ তাই এখন কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারছে না দেশটির রক্ষণশীল গোষ্ঠী। সেই সঙ্গে ইরাক এবং সিরিয়ায় সুন্নি জঙ্গী গোষ্ঠীর উত্থানও তাদের আতঙ্কিত করছে প্রতিনিয়ত।