২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ ॥ ইউরোপের জন্য বিপজ্জনক


রাশিয়া বিশ্বকে এক নতুন ঠা-া লড়াইয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে এবং ইউক্রেনে রুশ তৎপরতা ইউরোপের জন্য গুরুতর বিপদের সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সোমবার এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। খবর গার্ডিয়ান ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

ক্যামেরন ইউক্রেনের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করার বিরুদ্ধ রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে দেন। যদি পুতিন এ তৎপরতা চালিয়ে যান, তাহলে তিনি ব্রিসবেনে দু’নেতার বৈঠকে পুতিনকে সাবধাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ক্যামেরন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় প্রসঙ্গে উত্থাপন করে বলেন, যখন ইউরোপের বড় বড় দেশ ছোট ছোট দেশকে ভয় দেখায়, তখন তা দেখেও না দেখার ভান করার পরিণতি বিশ্বের ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি তাঁর ব্যবসায়ী শ্রোতাদের সতর্ক করে দেন, ব্রিটেনের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এর জাতীয় নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, রাশিয়ার অবৈধ তৎপরতা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং এর ভৌগোলিক অখ-তা লঙ্ঘন করছে। তিনি সিটি অব লন্ডনে লর্ড মেয়রের আয়োজিত এক ভোজসভায় পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এর আগে রাশিয়া থেকে ভারি অস্ত্রশস্ত্র ইউক্রেনে চালান দেয়া হয়।

তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করছে এবং ইউক্রেনের জনগণের নিজস্ব ভবিষ্যত নির্ধারণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে আরও গোলাবর্ষণ করা হয় এবং রাশিয়া থেকে সেখানে ভারি অস্ত্র পাঠানোর খবর পাওয়া যায়।

ক্যামেরন বলেন, বিশ্ব এক নতুন ঠা-া লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট মিসাইল গর্বাচেভ ভাষণ দেন। তিনি বলেন যে, এক ঠা-া লড়াই ‘অনিবার্য’ বলে তিনি মনে করেন না। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এ পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করতে পারে বলে তিনি যুক্তি দেন। এ অবস্থার কোন সামরিক সমাধান নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।

কিন্তু তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার ওপর প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া থেকে পুঁজি বাইরে চলে গেছে, ব্যাংকগুলো আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে এবং রাশিয়ার শেয়ারবাজার ও রুবলের মূল্যমানে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।

তিনি বলেন, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো এই যে, রাশিয়ার কর্মকা-ে ইউরোপের অবশিষ্টাংশের জন্য এক গুরুতর বিপদের সৃষ্টি করেছে। যখন ইউরোপের বড় বড় দেশ ছোট দেশকে ভয় দেখায়, তখন তা দেখেও না দেখার ভান করার পরিণতি সম্পর্কে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, আমরা এক নতুন ঠা-া লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি বলে মিখাইল গরবাচেভ সতর্ক করে দিয়েছেন। আমরা এটি অনিবার্য বলে মনে করি না বা এটি চাইও না। আমি এ সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এ কথা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেব। তিনি আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে দেব যে, যদি রাশিয়া এর এখনকার পথেই চলতে থাকে, তা হলে আমরা দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে যাব। বিশ্বের অবশিষ্টংশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভবিষ্যতে একেবারেই ভিন্নতর হবে।

তিনি বলেন, ব্রিটেন এতই দুর্বল যে, সে রাশিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না বা রাশিয়ায় হস্তক্ষেপ করা আমাদের কাজ নয় বলে যারা মনে করে থাকেন, তারা ভুল করছেন। ব্রিসবেনের বৈঠকই হবে ইউক্রেন সঙ্কট দেখা দেয়ার পর পুতিনের সঙ্গে ক্যামেরনের প্রথম বৈঠক। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়। চলতি বছরের প্রথম দিকে ওয়েলসে অনুষ্ঠিত জি-৮ নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ক্রিমিয়ায় রুশ আগ্রাসনের প্রতিবাদে পুতিনকে ওই বৈঠকে যোগদান থেকে বিরত রাখা হয়।