২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈশ্বরদী ইপিজেডের ব্রাদার্স প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে অনিয়ম


স্টাফ রিপোর্টার, ঈশ্বরদী ॥ ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্লাস্টিক দানা তৈরির ফ্যাক্টরি ব্রাদার্স প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজে উৎপাদন শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হচ্ছে। তিন মাস কাজ করার পর শ্রমিকদের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিযোগ দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না। স্থায়ীকরণের দাবি তোলা হলে তাকে চাকরিচুত করা হয়। ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে উৎপাদন শুরু হলেও অদ্যবধি মাত্র ৭৬ শ্রমিককে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। ট্যাক্স ফ্রি কাঁচামাল আমদানি করে প্লাস্টিক দানা উৎপাদনের পর স্থানীয় কাস্টমসকে ম্যানেজ করে হিসেবের বাইরে অতিরিক্ত মাল বেপজা থেকে বাইরে বিক্রি এবং হুন্ডির মাধ্যমে টাকা দেশের বাইরে পাচার করা হয়। ফ্যাক্টরিতে কর্মরত একাধিক শ্রমিক, কর্মচারী ও একটি দায়িত্বশীল সূত্রের অভিযোগে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ঈশ্বরদী ইপিজেডে ব্রাদার্স প্লাস্টিক ইন্ডাটিজের নামে ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই ৬ হাজার বর্গমিটার সমমানের জমিতে ২২, ২৩ ও ২৪ নংসহ তিনটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে প্লাস্টিক পাইপ, ত্রিপলসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ফ্যাক্টরিতে প্লাস্টিকদানা উৎপাদন শুরু হয়। এই প্লাস্টিকদানা তৈরির কাঁচামাল আমদানি করা হয় আমেরিকা, কানাডা, স্পেন ও জার্মানি থেকে। উৎপাদিত পণ্য বিদেশী মার্কেটে রফতানি করা হয়। দক্ষিণ বড়গাছা নাটোর স্টেশন বাজার এলাকার রতন কুমার আগরওয়ালার মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিতে একজন বিদেশীসহ মোট ৩শ’ ৪৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত আছেন। ২০১০ সাল থেকে চার বছরে মাত্র ৭৬ জনকে শ্রমিককে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। কোন শ্রমিক স্থায়ীকরণের দাবি তুললে সেই শ্রমিককে বাদ দিয়ে নতুন অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফ্যাক্টরির দায়িত্বরত পরিমল আচার্য জানান, কোন তথ্য দেয়া যাবে না। প্রতিদিন উৎপাদন কত হয় সেটি গোপন বিষয়। এটিও বলা যাবে না। বেপজার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যাক্টরিতে কার্যক্রম চলে। এমনকি তিনি কোন পদে কর্মরত তাও তিনি বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান। একই বিষয়ে বেপজার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক নাজমা ইসলামের কাছে ব্রাদার্স প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির সম্পর্কে এগারটি প্রশ্নের জবাব জানতে চাওয়া হলে তিনিও প্রতিদিন কি পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয়, হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর অভিযোগের বিষয়, ফ্যাক্টরির দায়িত্বে কর্মরত কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন কেন এসব প্রশ্নে জবাব দিতে পারেননি।