২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ষোড়শ সংশোধনী কেন বাতিল হবে না, হাইকোর্টের রুল জারি


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রবিবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

আদেশে, দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, আইনসচিব ও সংসদ কার্যালয়ের সচিবকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৬ নবেম্বর এ মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছে আদালত। গত ৫ নবেম্বর নয় আইনজীবীর পক্ষে এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এই রিট আবেদন করেন। আদালতেও বাদীপক্ষে তিনিই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এই রিটের বাকি আবেদনকারীরা হলেন- এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, ইমরান কাওসার, মোঃ মামুন আলিম, মোঃ একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, মাহবুবুল ইসলাম, মোঃ নুরুল ইনাম বাবুল, শাহীন আরা লাইলি, রিপন বাড়ই।

আদেশের পর এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, একটি রিট মামলার রায়ে সুপ্রীমকোর্ট মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্স বাতিল করলেও সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুনঃমুদ্রিত সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্তও করা হয়। তিনি বলেন, কিন্তু হঠাৎ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন ২০১৪ পাস হয় এবং গত ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। রিটকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আদালত অবমাননা আইন, সংশোধিত দুদক আইনের অংশ বিশেষ হাইকোর্ট বাতিল করায় এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় আদালত আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়ায় প্রশাসন ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণœ করতে’ এ সংশোধনী এনে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, আমি আদালতে বলেছি, সংশোধনী হলেও সংশ্লিষ্ট আইন এখনও হয়নি। তাই এ পর্যায়ে এই রিট চলতে পারে না। আইন হওয়ার পর পুরো বিষয়টা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তিনি বলেন, আদালতের কাছে তিনি সময় চাইলেও বিচারক রুল জারি করে বলেছেন, বিবাদীদের বক্তব্য পরে শোনা হবে।

গত সেপ্টেম্বরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাসের মধ্য দিয়ে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বিএনপিসহ কয়েকটি দল ও আইনজীবীদের একটি পক্ষ শুরু থেকেই সরকারের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিল।