২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রতিদিন কমছে ইমাম বাটনের উৎপাদন


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ইমাম বাটন উৎপাদন ক্ষমতা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। পাশাপাশি কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহারও দিন দিন কমছে। বর্তমানে কোম্পানির বড় অঙ্কের পরিচালন লোকসান রয়েছে। ফলে এর উৎপাদন ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার না হলে অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানটির।

২০১৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির বহিরাগত নিরীক্ষক এমনই মন্তব্য করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করেছে আনিসুর রহমান এ্যান্ড কোং।

প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটি বর্তমানে তার উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ২১ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহারও দিন দিন কমছে। কোম্পানিটির মেশিনারিজের সমস্যা রয়েছে। আর বিদ্যুত সরবরাহ সঠিকভাবে পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জেনারেটরও সঠিকভাবে বিদ্যুত যোগান দিতে পারছে না। এছাড়া বাজারে কোম্পানির পণ্যের চাহিদা কমে আসছে। এতে কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কোম্পানির অস্তিত্ব ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে হবে।

মন্তব্য অংশে আরও বলা হয়, কোম্পানিটি সংশ্লিষ্ট হিসাব বছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকার পরিচালন লোকসান করে। মূলত কাঁচামালের উচ্চমূল্য, বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওপর। এছাড়া বিদ্যুত সরবরাহ সঠিকভাবে না পাওয়া এবং জেনারেটরের সমস্যায় কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে।

এসব কারণে কোম্পানিটি অস্তিত্বের ঝুঁকিতে (গোয়িং কনসার্ন থ্রেট) পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে নিরীক্ষক। নিরীক্ষকের মতে, কোম্পানিটিকে টিকে থাকাতে হলে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কোম্পানির এসব পরিচালন বাধা দূর করতে হবে এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহারও কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নীত করতে হবে। এছাড়া কোম্পানির আর্থিক ও পরিচালন উভয় কার্যক্রমে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় কোম্পানির অদূর ভবিষ্যতে টিকে থাকায় ঝুঁকি রয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৪ সালে নেট লোকসান করে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ও শেয়ার প্রতি লোকসান ১ টাকা ৮০ পয়সা। এ সময় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কোন লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। আগামী ২০ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামে কোম্পানির কারখানা প্রাঙ্গণে। এজন্য রেকর্ড ডেট ১৯ নবেম্বর।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির নেট লোকসান হয়েছে ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৫৫ পয়সা। এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ শেয়ারের দর কমে ২ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ২০ পয়সা। দিনভর এর দর ৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ ৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ ৮ টাকা ১০ পয়সায় এর লেনদেন হয়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ৮ টাকা ২০ পয়সায়।