২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হরতালের প্রভাব কাঁচাবাজারে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনটি রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াতের ডাকা দফায় দফায় হরতালের প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২-১টি ছাড়া প্রায় সব পণ্যেরই দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, হরতালে দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় ঢাকায় পণ্য আসতে পারেনি। ফলে কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

এদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের রিভিউ আপিলের ব্যাপারে নোটিস পাঠিয়েছে আসামি পক্ষ। যদি এই নোটিস ফেরত আসে তবে আগামী সপ্তাহেও হরতালের সম্ভাবনা রয়েছে।

দেখা যায়, সীম, টমেটো আর ধনিয়া পাতা ছাড়া বেড়েছে সবকটি সবজির দাম। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ছিল ৩০ টাকা। হরতালের কারণে তা বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। গাজর কেজি প্রতি ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকায়। মরিচ কেজি প্রতি ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি প্রতিটি ২০ থেকে ৩০ টাকা হয়েছে। বরবটি কেজি প্রতি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকায়। কড়লা কেজি প্রতি ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। বেগুন, আলু, মুলা, পেঁপেতে কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে। শসা গত সপ্তাহে ছিল কেজি প্রতি ৪০ টাকা করে। হরতালের কারণে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। তবে মাছ-মাংসের দাম স্বাভাবিক আছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ, আদা, রসুনে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে। তবে মসলার দাম ঈদ-উল-আযহার পর কিছুটা বাড়লেও এখন স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

খাতুনগঞ্জ স্থবির

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, একটানা জামায়াতী হরতালে দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বিঘিœত হওয়ায় চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাবাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন ধরনের সাধারণ পণ্যের বেচাকেনায়। হরতালের কারণ দেখিয়ে সবজির বাজারে রীতিমতো আগুন। দূর থেকে সবজির যোগান কম আসছে এ অজুহাত দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি কাঁচা বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে মাছ এবং বয়লার মুরগির দর।

এদিকে, একটানা হরতালে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সঙ্কটে পড়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে হরতালের কারণে খাতুনগঞ্জ এবং আগ্রাবাদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আমদানি-রফতানি অফিসগুলো লেনদেন নিয়ে সঙ্কটে। হরতালের সময় ব্যাংক খোলা থাকলেও লেনদেন হচ্ছে নামমাত্র।