২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আফগান পরিস্থিতি বিপজ্জনক


যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের গতি ত্বরান্বিত করলেও আফগানিস্তান বিপজ্জনকভাবেই অস্থিতিশীল রয়ে গেছে। মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের কাছে পেশ করা এক সরকারী রিপোর্টে এ কথা বলা হয়। খবর ডন অনলাইনের।

আফগান মাদক ব্যবসা প্রসঙ্গে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, দেশটির আফিম চাষে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার লোক জড়িত রয়েছে। এ সংখ্যা আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সমগ্র সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। বেআইনী মাদক ব্যবসায় বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার আয় হয়। রিপোর্টে আফগান বাহিনীর সামর্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়। এতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সামর্থ্য সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যকে হঠাৎ গোপনীয় বিষয়ে পরিণত করায় জাতিসংঘ সমর্থিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (ইসাফ) সমালোচনা করা হয়। কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষ ইন্সপেক্টর জেনারেলের (সিগার) দফতর আফগান জাতীয় বাহিনীগুলোর কার্যকারিতার মূল্যায়ন করতে গিয়ে ইসাফের তথ্যকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করত। সিগারই বর্তমান রিপোর্টটি তৈরি করেছে। আফগানিস্তানকে মার্কিন সহায়তাদান যুক্তিসঙ্গত বলে দেখাতে কংগ্রেসের কাছে সিগারের বার্ষিক রিপোর্ট প্রদান বাধ্যতামূলক। যুক্তরাষ্ট্র আফগান বাহিনীগুলোকে গড়ে তুলতে, প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রসজ্জিত করতে এবং ভরণপোষণ করতে এরই মধ্যে ৬ হাজার ১৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে চাকরিচ্যুতি ও যুদ্ধে হতাহতের হার খুবই বেশি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪-এর আগস্টের মধ্যে আফগান সেনাবাহিনী থেকে ৩৬ হাজারেরও বেশি সদস্যকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়।

২০১২-এর মার্চ থেকে ২০১৪-এর আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ৮শ’ ৫০ জন সৈন্য যুদ্ধে নিহত হয় এবং অন্য ১৪ হাজার ৬শ’ জন আহত হয়। সিগার রিপোর্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এক মার্কিন মিডিয়ায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আফগান বাহিনীর গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেÑ ঐ রিপোর্ট থেকে উদ্বেগজনক সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। রিপোর্ট থেকে কংগ্রেসকে জানানো হয় যে, বিদ্রোহীরা তাদের লড়াইয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে রমরমা মাদক ব্যবসাকে কাজে লাগাচ্ছে। এ ব্যবসা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক প্রয়াস সত্ত্বেও তা ক্রমশ স্ফীতই হচ্ছে। মাদক ও অপরাধ বিষয়ক জাতিসংঘ দফতরের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিগারের রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৩ সালে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আফিম চাষ করা হয়। এটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় শতকরা ৩৬ ভাগ বেশি। উৎপন্ন আফিমের পরিমাণ ১৯৯৯ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐ সময় তালেবান দেশ শাসন করত এবং ৯১ হেক্টর জমিতে আফিম চাষ করা হতো। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব অঞ্চলগুলোতে যেখানে আফিম চাষের পরিমাণ বেশি, সেখানে বিদ্রোহীরা শক্তিশালী। বিদ্রোহীরা ১৫ আগস্টের পূর্ববর্তী নয় মাসে মোট ১৫ হাজার ৯শ’ ৬৮ বার হামলা চালায়। এর অর্থ হলো দৈনিক গড়ে ৬১টি হামলার ঘটনা ঘটে।