২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জঙ্গী জামিন


জঙ্গীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চায়। জামায়াত ও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সংযোগ

দু’জন জঙ্গীর জামিন বাতিলের পর গত রবিবার সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, যেসব আত্মস্বীকৃত জঙ্গী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভিআইপিদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল সেই অপরাধীদের যে বিচারকরা জামিন দেন তাদেরই বিচারের আওতায় আনা উচিত। তাঁর এ বক্তব্য দেশের অনেক সচেতন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বিচারকরা তাঁদের সিদ্ধান্ত বা রায় ঘোষণার সময় দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও ন্যায়নীতিকে উপেক্ষা করবেন। উল্লেখ্য, সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ গত রবিবার হরকত-উল-জিহাদ এবং জেএমবির দুই জঙ্গীর জামিন বাতিল করে দু’সপ্তাহের মধ্যে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গীদের জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে জঙ্গীরা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা করছে। সম্প্রতি আটক জঙ্গীদের কাছ থেকে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ও ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা বর্ধমানসহ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি শহরে ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। সেখানকার দু’একটি রাজনৈতিক সংগঠন তাদের মদদ যোগাচ্ছে। জঙ্গীরা গত আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি তারা পরিকল্পনা কার্যকরের পর কিভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যাবে সেই পথও ঠিক করে রেখেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে তাদের সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। তবে জঙ্গীরা যে এখনও তৎপর সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। আটক জঙ্গীরাই এ কথা বলেছে। জঙ্গীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চায়। জামায়াত ও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সংযোগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার জোরদারের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ দেশের মাটিতে যাতে জঙ্গীদের একটি ঘাঁটিও না থাকে, সে লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণই প্রয়োজন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত জঙ্গীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়া প্রায় ৫০০ জঙ্গীর কোন হদিস মিলছে না। গোয়েন্দারা বলেছেন, জামিনে মুক্ত জঙ্গীদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে দেশের বাইরে চলে গেছে। এটা কিভাবে সম্ভব হলো? এটা একটি বিপজ্জনক অবস্থার আভাস দেয়। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত দরকার। দেশ ও জাতির স্বার্থে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।