২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটি কাজে স্বচ্ছতা আনে, দুর্নীতি কমায়


জাতীয় সেমিনারে অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটি কাজে স্বচ্ছতা আনে। এটা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। দুর্নীতি কমায়। যেসব জায়গায় ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটি কার্যকর আছে সেখানে সেবার মান বেড়েছে। নিজ স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই স্ট্যান্ডিং কমিটির কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনেকে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং কমিটির আন্তরিকতা থাকার পরও বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কারণ কোর্ট থেকে এফিডেভিট বা নোটারির মাধ্যমে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বয়স বাড়িয়ে এনে বিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। রবিবার সকালে ‘সেবার মান উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ স্থায়ী কমিটির ভূমিকা’ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে এসে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর সামনে তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউ অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ভালনারাবিলিটি স্টাডিজ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেনের তত্ত্বাবধায়নে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। উন্নয়ন সমন্বয় এই সেমিনারের আয়োজন করেন। অধ্যাপক খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইএসএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মাহফুজ কবীর। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরিন রহমান খান ও এসডিএলজি’র প্রকল্প প্রধান জেরিম সায়্যার। মশিউর রহমান রাঙা বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির ওপর নির্ভর করে সরকারের অনেক কিছু। তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারও ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করার বিষয়ে আলোচনার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের সম্মানী এক লাখ টাকা। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সম্মানী সামান্য। এটা সম্মানী নয়, অসম্মানী। এটা মেনে নেয়া যায় না। সরকার হয় তাদের কোন সম্মানী দেবে না। না হয় তাদের সম্মান বাড়ে এমন সম্মানী দেয়া উচিত। অনেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটির বিরোধিতা করেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্ট্যান্ডিং কমিটিকে আপনারা প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন। এটা ঠিক নয়। এটা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটা না হলে গ্রামের উন্নয়ন হবে না। গ্রামের উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন হয় না। তবে, অনেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটিকে পারিবারিক কমিটি করে ফেলেন। এটা ঠিক নয়। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাবে না। বাল্যবিবাহের সুফল-কুফল বুঝিয়ে বলতে হবে। অনেক আইন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না ভোটের হিসেবের কারণে। আত্মীয়-স্বজন ও সামাজিক পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরবর্তী প্রজন্ম লোভ লালসার উর্ধে উঠে এসে কাজ করতে পারবে বলে আশাপ্রকাশ করেন মশিউর রহমান রাঙা। সরকার প্রতিটি ইউনিয়নের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নিয়েছে, সেখানে এখন প্রান্তিক মানুষদের জমার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।