১১ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভারসাম্য নষ্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র


অভিযোগ পুতিনের ॥ সাবেক মিত্র ইয়ানুকোভচকে সহায়তা করার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার

যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী অবকাশ শহর সোচিতে বক্তৃতার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন। শীতল যুদ্ধ যুগ পরবর্তীকালে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে এখন যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী বলে পুতিন দৃঢ়কণ্ঠে দাবি করেন। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থে ‘পুরো বিশ্বকে বদলে দেয়ার’ চেষ্টা করছে। রাশিয়ার নেতৃত্বে থাকা ১৫ বছরের মধ্যে এবারই পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে সবচেয়ে কঠিন ভাষা প্রয়োগ করলেন। ইউক্রেনে সঙ্কট তৈরির পর সাত মাস পার হয়েছে। এ সংঘাতে অন্তত ৩ হাজার ৭শ’ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। পরিস্থিতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সহসা সঙ্কট কাটবে বলে পুতিন মনে করেন না। তার মতে, ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য রাশিয়াকে বশ্যতা স্বীকার করানো। পুতিন স্বীকার করেন যে, তিনি ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। ইয়ানুকোভিচ গণআন্দোলনের মুখে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত হন। রাশিয়ার চাপের মুখে ইয়ানুকোভিচ গত বছর নবেম্বরে ইইউয়ের সঙ্গে গ্যাস চুক্তি সই করা থেকে সরে এসেছিলেন। এরপর শুরু হয় ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংঘাত। ইয়ানুকোভিচের বিদায়ের পর ক্ষমতায় আসেন পশ্চিমাপন্থী পেত্রো পোরোশেঙ্কো। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বক্তৃতায় পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে কোন ধরনের ছাড় না দেয়ার কথা প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করেন। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট ও সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠ পোষকতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। পুতিন বলেন, ‘আমি বুঝি না আমাদের সহযোগীরা (যুক্তরাষ্ট্র) কিভাবে বারংবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।’ সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে জঙ্গী উত্থানের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভুল নীতিকে দায়ী করেন। পুরো বক্তৃতাটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়। সাবেক মিত্র ইয়ানুকোভচকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করার কথা এই প্রথম স্বীকার করলেন পুতিন। তার মতে, ইয়ানুকোভিচকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক লঙ্ঘন করেনি বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকেও অসম্মান করেনি। তিনি ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তিকরণের ঘটনাটি আইনসম্মতভাবে হয়েছে বলে দাবি করেন। পুতিন জোর দিয়ে বলেন যে, বৈশ্বিক ইস্যুতে পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কারও কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা রাশিয়ার নেই। তিনি এমন একটি ফোরামের বার্ষিক সমাবেশে বক্তৃতাটি দিয়েছেন যেটি মূলত পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের জন্য গঠিত হয়েছে।

পশ্চিমা ও রুশ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ভালদাই ক্লাবের এবারের সম্মেলনটি এবার সোচি শহরে অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এমন সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের অনেকে ছিলেন, যারা রুশ সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। এর আগে সংগঠনটির বার্ষিক সম্মেলনে পুতিন মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার শুভেচ্ছা বার্তা তুলে ধরতেন। গত বছর তিনি এ সম্মেলনে বিরোধী পার্লামেন্ট সদস্যদের কিছু প্রশ্নের উত্তর এবং রাজনৈতিক ছাড়ের প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি সেখানে কৌতুকও বিনিময় করতেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। পুরো বক্তৃতায় তাকে একবারের জন্যও হাসতে দেখা যায়নি।